Wednesday, April 15, 2026
spot_imgspot_imgspot_imgspot_img
Homeনির্বাচিতঈদ এলে গার্মেন্টস মালিকেরা গরিব হয়ে যায়

ঈদ এলে গার্মেন্টস মালিকেরা গরিব হয়ে যায়

আরিফুজ্জামান তুহিন

প্রতিবার ঈদ এলে গার্মেন্টস মালিকেরা গরিব হয়ে যায়, সে কারণে তারা কারখানার শ্রমিকদের বেতন দিতে পারেন না। যদিও গরিব এই মালিকেরা ঈদ করতে দেশের বাইরে ইউরোপ আমেরিকা যায়, আমাদের গরিব শ্রমিকরা রাস্তায় বসে ইফতারি করে, ঈদের আগে বেতন ও বোনাসের দাবিতে বামপন্থীরা প্রতিবার মাঠে নামে। এই মাঠে নামা আমি ঢাকায় এসেই গত ২৫ বছর দেখছি।

এতে আওয়ামী লীগ, বিএনপি জামাতের চার দলীয় জোট সরকার, ওয়ান ইলেভানের জরুরী সরকার, লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার, লীগ সরকার তারপর ৫ আগস্টের পর ছাত্র অভ্যুত্থানের শান্তিতে নোবেল পাওয়া ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূসের অর্ন্তবর্তীকালিন সরকারের মধ্যে কোন ফারাক নেই; এই তাবত সরকারের কাছে শ্রমিকের কোনো দাম নেই। কারণ এই শ্রমিকরা প্রথম আলো, ডেইলি স্টার পড়া মানুষ না; তারা ইউটিউবারও না। তাদের কেউ সমন্বয়কও না; তাদের কেউ ক্রিকেটারও না। তাদের নিয়ে প্রথম আলো শনিবার সুসংবাদে ছাপা হবে না, তাদের কেউ ক্রিকেটার হবে না, তাদের উদ্ধারে উপদেষ্টারা দোয়া করবেন না, Tarique Rahman ফেসবুকে পোস্ট দেবেন না।

বামপন্থীরা গত কয়েকদিন টানা শ্রমিকের বেতন ও বোনাসের দাবিতে আন্দোলন করছে। সেই আন্দোলনের ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে শ্রম মন্ত্রণালয় ঘেরাও ছিলো। অনেকে বলবেন, বামপন্থীরা জানে না যে সেখানে ১৪৪ ধারা ছিলো?

উত্তর: অবশ্যই জানে।

পাল্টা প্রশ্ন: আপনি জানেন না, তিন মাস বকেয়ার কারনে বাড়ি ভাড়া, মুদি দোকানের বাকি, সামনে ঈদ? এসব আপনি জানেন না? এইসব শ্রমিকের টাকা কি আপনি দেবেন?

পুলিশ বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর প্রেসিডেন্টকে বেধড়ক পিটিয়েছি। ওর কলার বোনের দিকে তাকান খামছে নিয়েছে। হাতে হাতকড়া এমনভাবে পরিয়েছে যেনো ও কেবল পদ্মা ব্যাংক, ইসলামি ব্যাংক উজাড় করে এসে পুলিশের কাছে ধরা পড়েছে।

আপনারা মনে রাখুন, দিলীপ রায় সেই কমরেড যিনি হাসিনা আমলে আইসিটির কালো আইনে জেল খেটেছিল।

নোট: যারা বলছে দিলীপ পুলিশকে আগে মেরেছে, তাদের মতকে ভুল দেখাতে আমি এখন ফ্যাক্ট চেকার Qadaruddin Shishir শিশিরের ভূমিকা নিতে পারব না। কারণ, যারা চোখে টিনের চশমা পরে , সেই টিনে পুলিশকে ইমাম মেনে, রাষ্ট্রকে পুত পবিত্র আকা ছবি সাটায় বসে থাকে তাদের যদি পুলিশ পেছনেও ভরে দেয় বলবে, আব্বায় দিছে খারাপ লাগছে না।

শ্রমিকের জন্য ১৪৪ ধারা ভাঙায় বামপন্থী বিপ্লবীদের অভিনন্দন। শ্রমিক কৃষকের জন্য লড়াই হলো মূল কাজ। কালচারাল ওয়ার করা বামেদের প্রধান কাজ না।

বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর প্রেসিডেন্ট দিলীপ রায়কে পুলিশ যেভাবে পিটিয়েছে এভাবে পেটানো উচিত ছিলো এস আলম, সামিটের মালিকদের। সেটাতো সম্ভব না। কারণ রাষ্ট্রটাতো ওনাদের।

বামপন্থীরা গরিব মেহনতী মানুষের সংগ্রামের ব্যাপারে আপোষ করে না, অন্তত নতুন প্রজন্মের বামেরা এই লড়াই অন্যভাবে দেখতে চায়।

মাসের পর মাস শ্রমিকের বকেয়া বেতন দেবে না, তাদের বোনাস দেবে না; শ্রমিকের পেটের জন্য যে বামপন্থীরা ছাত্ররা ১৪৪ ধারা ভাঙছে তাদের জন্য অনেক অনেক ভালোবাসা।

আর যেসব বাবু সোনারা ১৪৪ ধারা ভাঙছে বলে কানতেছো, তোমরা কাঠি লজেন্স খাও।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

এ সংক্রান্ত আরো সংবাদ

এ সপ্তাহের জনপ্রিয় সংবাদত