Wednesday, April 15, 2026
spot_imgspot_imgspot_imgspot_img
Homeগার্মেন্টস সংবাদ১০ হাজার কোটির তৈরি পোশাক শিপমেন্ট নিয়ে বিপদে ব্যবসায়ীরা

১০ হাজার কোটির তৈরি পোশাক শিপমেন্ট নিয়ে বিপদে ব্যবসায়ীরা

বাংলাদেশের পোশাক শিল্পে এক বড় ধরনের অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের উপর ৩৭ শতাংশ নতুন শুল্কারোপের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, যার ফলে প্রায় ৮০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের তৈরি পোশাক শিপমেন্ট নিয়ে বিপাকে পড়েছেন গার্মেন্ট মালিকরা। স্থানীয় মুদ্রায় এই শিপমেন্টের পরিমাণ প্রায় ১০ হাজার ৮০ কোটি টাকা। এসব পণ্য বর্তমানে বন্দরে কিংবা জাহাজে রয়েছে এবং শুল্ক বৃদ্ধির পর এগুলোর ভাগ্য নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।

বিকেএমইএ প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ হাতেম জানিয়েছেন, এ মুহূর্তে তাঁদের প্রধান দুশ্চিন্তার কারণ হলো শিপমেন্ট পণ্য। “প্রতি মাসে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৮০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়, যার বেশিরভাগই এখন বন্দরে কিংবা জাহাজে রয়েছে। এখন বড় প্রশ্ন হলো, এই পণ্যগুলোর উপর কি নতুন শুল্ক প্রযোজ্য হবে?”, বলেছেন তিনি।

গত ২ এপ্রিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশের ওপর ৩৭ শতাংশ শুল্কারোপের ঘোষণা দেন, যা ৯ এপ্রিল থেকে কার্যকর হবে। এর আগে যে সব পণ্যের অর্ডার পাওয়া গেছে এবং বর্তমানে কারখানায় তৈরি হচ্ছে, সেগুলোর শুল্ক পরিস্থিতি নিয়ে কোনও নিশ্চিততা নেই। বিশেষ করে শুল্ক বৃদ্ধির পর যেসব পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হবে, সেগুলোর পরিণতি কী হবে তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

গার্মেন্ট মালিকরা সতর্ক করেছেন যে, শিপমেন্ট স্থগিত হলে ব্যাংক ঋণ পরিশোধে সমস্যা তৈরি হবে, যা নতুন এলসি খোলার ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করবে। এতে করে কারখানা বন্ধ হয়ে যেতে পারে এবং শ্রমিকদের বেতন-ভাতা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হবে।

দেশের পোশাক খাতে বর্তমানে ৫০ লাখ ১৭ হাজার ৬৫২ জন শ্রমিক কর্মরত। এর মধ্যে ৫৫ শতাংশ নারী শ্রমিক। শুল্ক বৃদ্ধির কারণে ব্যবসার ক্ষতি হলে, প্রথম প্রভাব পড়বে এসব শ্রমিকের আয় ও কর্মসংস্থানে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, যদি পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হয়, তবে শ্রমিকদের জীবিকা নির্বাহ করা কঠিন হয়ে পড়বে। 

বাংলাদেশ গার্মেন্ট ও সোয়েটার শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক কাজী রুহুল আমিন জানিয়েছেন, শুল্কারোপের কারণে পোশাক শিল্পের আয় কমলে এর প্রধান ক্ষতিগ্রস্ত হবে দেশের শ্রমিকরা। যদি কোনো কারণে কারখানার আয় কমে যায়, তাহলে শ্রমিকদের বেতন কমানোর প্রবণতা দেখা দিতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কারোপের সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক ও কূটনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে হবে। সময়মতো পরিস্থিতি সামাল না দিলে বাংলাদেশের পোশাক শিল্প এবং শ্রমিকদের জন্য বড় ধরনের সংকট তৈরি হতে পারে।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজের নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ বলেছেন, শুল্ক বৃদ্ধির কারণে যদি ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাহলে শ্রমিকদের আয় ও কর্মসংস্থানে বড় ধরনের সমস্যা তৈরি হবে। আমাদের দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে এই পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

এ সংক্রান্ত আরো সংবাদ

এ সপ্তাহের জনপ্রিয় সংবাদত