দুপুরে খাওয়ার পর অনেকেরই ঘুম পায়। এর কারণ হলো খাওয়ার পর মস্তিষ্কে অক্সিজেন সরবরাহ হ্রাস পেতে শুরু করে। এতে ঘুম ঘুম ভাব আসে। এটি স্বাভাবিক ব্যাপার হলেও দৈনন্দিন কাজ, পড়াশুনা এবং অফিসের কাজ শেষ করতে সমস্যা তৈরি করে।
ঘুম ঘুম ভাবের সমস্যা এড়াতে কয়েকটি কাজ করতে পারেন। এতে খুব সহজেই এ সমস্যা দূর হবে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদন অনুসারে আসুন এক নজরে জেনে নিই, দুপুরের পর কিংবা বিকেলে ঘুম তাড়ানোর কিছু সহজ উপায়-
১। পানি পান করুন: পানি ঘুম ঘুম ভাব দূর করার সবচেয়ে ভালো ওষুধ। পানি পান করলে আমাদের দেহের কোষগুলো নতুন করে উজ্জীবিত হয়ে ওঠে। এক গ্লাস পানি পান করে নিন। দেখবেন ঝিম ঝিম ঘুম ধরা ভাব কেটে গেছে। একই সঙ্গে পানি পান করলে মস্তিষ্ক নতুন করে কাজ করার জন্য তৈরি হয়ে যায়।
২। এক কাপ চা-কফি: চা বা কফি ঝিম ভাব দূর করার জন্য সবচেয়ে কার্যকর একটি পানীয়। দুপুরের খাবারের শেষে এক কাপ চা-কফি খেলে এক নিমেষে দূর হবে ঝিম ধরা ভাব। চা-কফির ক্যাফেইন আমাদের মস্তিষ্ককে সজাগ রাখতে বেশ কার্যকর।
৩। হাঁটাহাঁটি করুন: বসে থাকলে কিংবা চেয়ারে একটু গা এলিয়ে পড়ে থাকলে ঘুম ঘুম ভাব আরও জেঁকে বসে। তাই পাঁচ মিনিটের জন্য হলেও হাঁটুন। এতে শরীরের আলস্য কেটে যাবে। আর ঘুম ঘুম ভাবও দূর হবে।
৪। চোখেমুখে পানি দিন: চোখে পানির ঝাপটা দিন। চোখে মুখে ঠান্ডা পানির একটু ঝাপটা দিলে মাথা ঝিম ধরা এবং শরীরে অলসভাব একেবারে দূর হয়ে যায়।
৫। কথা বলা: আপনি যদি ঘুম ঘুম ভাব নিয়ে চুপচাপ কাজে মনোযোগ দেয়ার চেষ্টা করতে থাকেন, তাহলে কখনোই এই ঝিম ধরা ভাবটি যাবে না। কারণ এতে করে আপনার আলস্য কাটানোর কোনো কাজই হচ্ছে না। তাই কারো সঙ্গে কথা বলুন, কাজ হবে।
৬। গান শোনা: মস্তিষ্কের তরঙ্গে ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করে গান। ঘুম পেলে দ্রুত মিউজিক বিটের কোনো গান শুনুন। ঘুম দৌঁড়ে পালাবে।
৭। খাবার: চর্বিযুক্ত খাবার তন্দ্রাচ্ছন্ন করে শরীরে অলস ভাব নিয়ে আসে। তাই দুপুর কিংবা বিকেলের ঘুমকে না বললে চর্বিযুক্ত খাবার বাদ দিয়ে সুষম ও স্বাস্থ্যকর খাবার খান। পাশাপাশি ঘুম ভাব দূর করতে চিবোতে পারেন বাদাম বা চুইংগাম, কাজে দেবে।
৮। আকুপ্রেশার: ঘুম ঘুম ভাব তাড়াতে শরীরের কয়েকটি অংশে চাপ দিতে পারেন। পয়েন্টগুলো হলো মাথার উপরের অংশে, হাতের পিছনে, হাঁটুর নীচে, ঘাড়ের পিছনের অংশের উপরে। একটি পয়েন্টে ২০বার চাপ দিতে পারেন। এবং প্রতিবারের চাপে একটি সংক্ষিপ্ত বিরতি নিতে পারেন। এর ফলে ক্লান্তিদূর হবে পাশাপাশি ঘুম ঘুম ভাবও পালাবে।

